প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ২৭ (19 September 2026, 08:27)
বাংলাদেশ ক্রমশ ঋণের ‘উচ্চঝুঁকি’র দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ বিলিয়ন ডলারে। এই বিশাল ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই এখন সরকারের আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, অপচয়মূলক সরকারি ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং অপরিকল্পিত অর্থায়নের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে জানান, ঋণ শোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ও দেশীয় মুদ্রা—উভয় সংকটের কারণে বাংলাদেশ একটি বিপজ্জনক ঋণচক্রে আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে মন্দা, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল স্থবির রপ্তানি এবং স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে জ্বালানি আমদানির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হওয়া সত্ত্বেও কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থায়নের পরিকল্পনা ছাড়াই নতুন পে স্কেল ঘোষণাসহ সরকারের নানা ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি পুরোনো প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড বা রেয়াতকালীন সময় শেষ হয়ে আসা এবং উচ্চ সুদের অভ্যন্তরীণ ঋণের কারণে ঋণ পরিশোধের চাপ এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণ পরিশোধের এই বিশাল চাপ সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় সংকট তৈরি করতে পারে।





