চট্টগ্রামে দুই ভবনের ক্ষতিপূরণে দ্বিগুণ ফারাক, বিপাকে জলাবদ্ধতা প্রকল্প

Published: September 21, 2026, 4:58 am

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালের প্রশস্ততা বাড়াতে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় কনকচাঁপা ও বাদশা নূরী নামে দুটি ১০ তলা ভবন অপসারণ করতে হচ্ছে। তবে ভবন দুটির স্থাপনার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে গণপূর্ত বিভাগের দেওয়া হিসাবে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। কনকচাঁপা ভবনটি ২০১০ সালে নির্মিত হয় এবং এর মোট আয়তন ৫৪ হাজার ২৭৫ বর্গফুট। গণপূর্ত বিভাগ ভবনটির স্থাপনা মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, এর পাশের বাদশা নূরী ভবনটি ২০১৩ সালে নির্মিত এবং এটি আয়তনে বড়—৫৮ হাজার ২০০ বর্গফুট। অথচ এই নতুন ও বড় ভবনটির স্থাপনা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। দুটি ভবনের স্থাপনা মূল্যের এই ব্যবধান ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকারও বেশি।

সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিন জানান, বর্তমান নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে প্রকল্পের বাজেটে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভবনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে এসব স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ১৬৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। কিন্তু শুধু হিজড়া খালের এই দুটি ভবনের জন্যই বর্তমানে নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রায় ৫৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আইন অনুযায়ী, স্থাপনার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে হিসাবে কনকচাঁপা ভবনের জন্য প্রায় ৩৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং বাদশা নূরী ভবনের জন্য প্রায় ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বিষয়টি নজরে আসার পর গত ১২ আগস্ট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন। তিনি ভবন দুটির মূল্য পুনর্মূল্যায়নের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করেছেন এবং মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি অবহিত করেছেন। সিডিএর অভিযোগ, কনকচাঁপা ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের জন্য পৃথকভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হলেও বাদশা নূরী ভবনের ৩৬টি ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে পুরো ভবনের জন্য একসঙ্গে ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূল্যায়নপদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গণপূর্ত বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর রাশেদুল করিমের দাবি, সিডিএর অনুরোধে গণপূর্তের চলমান রেট শিডিউল অনুযায়ী ভবনটির মোট আয়তন, নির্মাণ সাল ও মালিকের দেওয়া নকশা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান ও উপসহকারী প্রকৌশলী মনোজ দে জানান, তারা নকশা যাচাই করে কোনো ভুল পাননি এবং সিডিএ পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেনি। তবে সিডিএ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। যৌথ পরিদর্শনে দেখা গেছে, তালিকায় থাকা চারটি সেন্ট্রিফিউগাল পাম্পের স্থলে একটি, ১৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার স্থলে দুটি এবং ২৫টি টেলিফোন সেটসহ পিএবিএক্স সিস্টেমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালের প্রশস্ততা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ২৭ ফুট করা হবে এবং পাশে ১৫ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর আগে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের ক্ষতিপূরণ পুনর্মূল্যায়নে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা কমে গিয়েছিল, যা হিজড়া খালের এই দুটি ভবনের ক্ষেত্রেও পুনর্মূল্যায়নের দাবিকে জোরালো করেছে। সিডিএ চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, গণপূর্ত বিভাগ বর্তমান মূল্যায়ন পুনর্বিবেচনা না করলে তারা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবেন। এদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, এই দুটি ভবনের মূল্যায়ন নিয়ে তার কাছে এখনো কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo