রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিএনপি: মাঠে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি

Published: October 1, 2026, 7:13 am

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়াচ্ছে। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাঠে পাল্টা কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটি এখন অঘোষিত কর্মসূচিও শুরু করেছে। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা দাবি করেছেন, কোনো চাপের মুখে পড়ে নয়, বরং বিরোধী দলগুলোর ‘অপপ্রচার’ ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের জবাব দিতেই তারা এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় সাম্প্রতিক সময়ের আওয়ামী লীগের তৎপরতা জায়গা করে নিয়েছে। দলটির নেতাদের অভিযোগ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের পেছনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো নিয়ে দলের ভেতরে অস্বস্তি থাকলেও, তারা মনে করছেন এসব ক্ষেত্রে সরকারের ভাবমূর্তি ক্রমশ কমছে। সরকারের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে সরকারের একমাত্র পুঁজি হিসেবে দেখছেন সরকারের দায়িত্বশীল নেতারা।

সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম বিভাগের নেতাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছে বিএনপি। সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত মৃধা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র বলছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নিতে পারেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বিরোধী দলগুলোর বিভ্রান্তি দূর করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির মোকাবিলার লক্ষ্যেই বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকার দায়ী নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তার মতে, দাম বাড়ানোর পরও সরকার প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান বহন করছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ করেছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকট, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল এর প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের ভাষ্যমতে, দাম না বাড়ালে ডিজেলে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বা লোকসানের চাপ তৈরি হতো।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অবশ্য মনে করেন, বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লে দেশে সমন্বয় করার বিকল্প ছিল না, তবে দাম বৃদ্ধির হার অনেক বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির মুখে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo