মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে ভারত জুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ

Published: October 26, 2026, 3:47 pm

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের করা এক ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ বিরুদ্ধে সোমবার ভারত জুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, পটনা, লখনউ এবং জম্মুসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে একযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে খাড়গের অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার পাটনায় আয়োজিত কংগ্রেসের এক সভায়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন খাড়গে। তিনি বলেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এসআইআরে কারচুপি করা ব্যক্তিদের জেলে পাঠাবে এবং মোদিকেও জেলে পাঠানো হবে। এই বক্তব্যের সময় সভার এক তরুণ ‘মোদি নেহি যায়েগা’ বলে মন্তব্য করলে খাড়গে উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘মোদি কা বাপ ভি যায়েগা’ (মোদির বাপও যাবে)।

সভায় বাধা প্রদানকারী ওই তরুণের নাম সন্তোষ কুমার। অভিযোগ রয়েছে, কংগ্রেস কর্মীরা তাকে সভা থেকে বের করে দেন এবং মারধর করেন। তবে সন্তোষ কুমার পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানান, তাকে ভুল বোঝা হয়েছে, তিনি মূলত মোদির ক্ষমতাচ্যুতি কতটা কঠিন তা বোঝাতে চেয়েছিলেন।

এই মন্তব্যের পর বিরোধী শিবিরের রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। অমিত শাহ দাবি করেছেন, খাড়গে শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছেন। এছাড়া নিতিন নবীনসহ বিজেপির প্রথম সারির নেতারা কংগ্রেসের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

বিজেপির এই দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। খাড়গে নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তার পুত্র ও কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেছেন, বিজেপি অকারণে বিষয়কে বড় করে তুলতে পছন্দ করে। তিনি আরও বলেন, মোদি-শাহ অতীতে কী বলেছেন তা এই ‘সংস্কৃতিবান’ মানুষেরা ভুলে গেছে, তাই তাদের কাছ থেকে সংস্কৃতি শেখার প্রয়োজন নেই।

এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাও। তিনি খাড়গের মন্তব্যের সমালোচনা করলেও বিজেপির দ্বিমুখী আচরণের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে যখন সনিয়া গান্ধী বা খাড়গের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতারা মন্তব্য করেছিলেন, তখন এমন ক্ষোভ দেখা যায়নি। এদিকে, ২০১৮ সালে অমিত শাহকে নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানির মামলায় রাহুল গান্ধী নির্দোষ সাব্যস্ত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin