ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ চলছে, চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে ৪ নভেম্বর

Published: October 27, 2026, 8:31 am

ইসরায়েলে বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থী বিরোধী নেতারা দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং রাত ১০টা পর্যন্ত তা চলমান থাকবে। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল তাদের বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করবে, যা থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু হবে।

নির্বাচনের ফলাফল ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। যদি কোনো দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়, তবে দ্রুত ফলাফল পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক দিন এমনকি কয়েক সপ্তাহও অনিশ্চয়তা চলতে পারে। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট 'নেসেট'-এ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দলকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেতে হলে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জন করতে হয়। প্রায় এক ডজন দল এই সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে সময়ক্ষেপণ করতে পারে।

চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যে নেতার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকবে, তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। দেশটিতে সাধারণত একক কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না বলে জোট সরকার গঠন করতে হয়, যেখানে ছোট দলগুলোর সমর্থন নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে, আর চূড়ান্তভাবে সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচনের ডাক দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy