রাজধানীর আদাবর এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক জালাল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে তার আপন বড় ভাই আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দুই ভাই পরপর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার ডিবি তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার দিবাগত রাতে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট মামলায় জালাল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি আদাবর এলাকায় ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক শিশু ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ও নালা নির্মাণকাজে বাধা প্রদান এবং ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে জালালের বড় ভাই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। নয়ন গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ২৪ অক্টোবর তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে ছাত্রদল। দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বড় ভাইয়ের পর জালাল মাতুব্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ বিষয়ে যুবদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত বিবৃতি দেওয়া না হলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজির অভিযোগ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আদাবর এলাকায় এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ অনেক পুরোনো। তারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন ভবন নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী ভবনমালিক ও ঠিকাদারা মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। তবে সম্প্রতি কয়েকজন ভুক্তভোগী ডিবির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে নয়ন এবং পরে জালালকে গ্রেপ্তার করা হয়।





