৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় প্রথম পর্যায়ের প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে আগামী সোমবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিসিএস নিয়োগে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ৪৯তম বিসিএসে পিএসসির চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬১১ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকি ৫৭ জনের নাম প্রজ্ঞাপনে না থাকায় যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৫৭ জন নয়, ৪৬ জন। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল টেস্টে উপস্থিত হননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা নাকচ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, 'কারও রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, বিসিএস বা এই ধরনের পরীক্ষায় সেই কারণে কোনো বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না। ভেরিফিকেশন, মেডিকেল টেস্ট এবং সার্টিফিকেট জমা দেওয়া একটি বাধ্যবাধকতা।'
এক প্রার্থীর আত্মহত্যার হুমকির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের পদধারী নেতা ছিলেন। তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগ না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। মন্ত্রী তাকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিসিএস নিয়োগের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারই হয় না, বরং কয়েকবার হতে পারে। আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সার্ভিসে যোগদানের সময় আছে। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে হাজারে দু-একজন বাদ পড়তে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।





