নানা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে জাপানের নাগোয়ায় পর্দা উঠল ২০তম এশিয়ান গেমসের। ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন জাপানের সম্রাট নারুহিতো। অলিম্পিকের চেয়েও বেশি অ্যাথলেটের এই ক্রীড়াযজ্ঞের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অবশ্য গ্যালারির অনেক আসনই ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কিয়ার্স্টি কভেন্ট্রি এবং সম্রাজ্ঞীকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সম্রাট নারুহিতো। তিনি গেমস শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর উপস্থিত দর্শকেরা করতালির মাধ্যমে তা স্বাগত জানান। এবারের আসরে ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট এবং ৬ হাজার কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন।
তবে জমকালো উদ্বোধনের পেছনে রয়েছে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা। অ্যাথলেটদের আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে শুরু থেকেই আয়োজকেরা তোপের মুখে পড়েছেন। বাজেট সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রথাগত অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি না করে কন্টেইনার দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ঘর, হোটেল এবং ‘কোস্টা সেরেনা’ নামক একটি প্রমোদতরীতে অ্যাথলেটদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কন্টেইনারের ছোট বিছানা নিয়ে ইতোমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অনেক দলের অ্যাথলেটরা। এছাড়া বিমানবন্দরে পরিবহন সংকট এবং সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার হকি দলের জন্য ভুলবশত উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানোর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এর ওপর গত সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির পর এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে টাইফুনের শঙ্কা।
পুরুষদের একক ট্রায়াথলন ইভেন্ট দিয়ে এবারের গেমসের প্রথম স্বর্ণপদকের লড়াই শুরু হবে। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৭টি খেলার ফলাফল ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাপানের এই আয়োজনের প্রশংসা করেছেন অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) প্রেসিডেন্ট শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানি। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যখনই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়েছে, জাপান সব সময় সাড়া দিয়েছে।’ এদিকে, গত আসরে ঘরের মাঠে ২০১টি স্বর্ণসহ রেকর্ড ৩৮৩টি পদক জেতা চীন এবারও পদক তালিকার শীর্ষে থাকার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।





