চলতি বছরের শুরুর দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের একটি ভুল প্রতিবেদনের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও চীনের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সময়ে মার্কিন বাহিনী একটি চীনা জাহাজে তল্লাশি চালানোর জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপাদান থাকার দাবি করা হয়েছিল। তবে অভিযানের একদম শেষ মুহূর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন যে, একজন বিশ্লেষকের ব্যবহৃত এআই চ্যাটবট জাহাজের পণ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে চারজন বেনামি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করা ওই প্রতিবেদনটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি প্রায় যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছিল। যদিও জাহাজটির গন্তব্য বা পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যখন নতুন করে বিতর্ক চলছে, তখনই এই ঘটনা সামনে এল। চলতি মাসের শুরুতে অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রযুক্তিটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী এআইয়ের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব সংকটের সম্ভাবনাকে ১০ শতাংশেরও বেশি বলে দাবি করেছেন। তবে এসব সতর্কবার্তার মধ্যেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠরা এআই উন্নয়নের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। পলিটিকোর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া থেকে মেরামতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ হংকংয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ককপিটের সংবেদনশীল স্টেলথ ক্যানোপিও রয়েছে। বর্তমানে ওই যন্ত্রাংশগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না, যা বেইজিংয়ের হাতে মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। লকহিড মার্টিনের মুখপাত্র এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, তারা মার্কিন সরকারের নিয়ম মেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চালান পরিচালনা করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, এফ-৩৫ কর্মসূচির অখণ্ডতা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করে পরিচালনা করা হয়।





