সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে বামপন্থি জোট সামান্য ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। শুক্রবার পার্লামেন্টের স্পিকার আন্দ্রেয়াস নোরলেন তাকে সরকার গঠনের সম্ভাবনা যাচাই ও এ বিষয়ে আলোচনার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে বামপন্থি জোট ১৭৬টি আসন পেয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৭৫ আসনের চেয়ে মাত্র তিনটি বেশি। সরকার গঠন নিশ্চিত করতে অ্যান্ডারসনকে তার শরিক দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখার জন্য কঠিন সমঝোতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
মধ্য বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা সরকার গঠনে গ্রিনস, সেন্টার পার্টি ও লেফট পার্টির সমর্থন প্রত্যাশা করছে। তবে এই দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক লেফট পার্টি শর্ত দিয়েছে যে তাদের সমর্থন পেতে হলে মন্ত্রিসভায় তাদের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে, উদারপন্থি সেন্টার পার্টি জানিয়েছে তারা এই সরকারকে সমর্থন দেবে না, যা সরকার গঠনের সমীকরণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্য ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেন। তার নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে ১৭৩টি আসন পেয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে দলীয় কৌশল পরিহার করে সুইডেন ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের হাতে সরকার গঠনের জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। যদি তিনি এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে ক্রিস্টারসনকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে। সুইডেনের রাজনীতিতে জোট বা সংখ্যালঘু সরকার গঠন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দুটি বড় বাম ও ডানপন্থি জোটের প্রতিটিতে চারটি করে দল থাকায় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য সমঝোতা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনেও সরকার গঠন করতে এক মাসের বেশি সময় লেগেছিল।
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৭আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৩৩





