ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সালমান শাহ। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি আমাদের মাঝে নেই, তবুও অগণিত দর্শকের হৃদয়ে তিনি এখনো অমলিন। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, এই জনপ্রিয় নায়কের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫৫তম বছরে পা দিতেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি পরবর্তীতে রূপালি পর্দায় সালমান শাহ নামে পরিচিতি পান।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। প্রথম সিনেমাতেই তিনি অভাবনীয় দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ২৭টি সিনেমা। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘প্রেম প্রিয়াসী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’ এবং ‘বুকের ভেতর আগুন’।
অভিনয়ের পাশাপাশি সালমান শাহর পোশাক, চুলের কাট এবং ফ্যাশন নব্বইয়ের দশকের তরুণ প্রজন্মের কাছে ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের জুটি অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত। ক্যারিয়ারে সালমানের করা ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাবনূর।
উল্লেখ্য, সালমান শাহর অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে। ১৯৮৫ সালে বিটিভির ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকের মাধ্যমে তিনি প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। এরপর তিনি ‘দেয়াল’ (১৯৮৫), ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’ (১৯৮৫), ‘সৈকতে সারস’ (১৯৮৮), ‘নয়ন’ (১৯৯৫) এবং সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ নাটকে অভিনয় করেন।
সবার প্রিয় এই ‘স্বপ্নের নায়ক’ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার মৃত্যুর কারণ এখনো রহস্যের চাদরে মোড়ানো রয়ে গেছে।





