বাসচাপায় কর্নেল আজিজ পাশার মেয়ের মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ মায়ের

Published: September 19, 2026, 6:05 am

২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাজধানীর খিলক্ষেতে বাসচাপায় নিহত হন আফসানা পাশা। ঘটনার সময় এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সম্প্রতি নিহতের মা লিজা আহমেদ এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘ওপরের নির্দেশে’ তাঁর মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা ছিল।

নিহত আফসানা পাশা ছিলেন প্রয়াত কর্নেল আজিজ পাশার একমাত্র মেয়ে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে খিলক্ষেতের লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে একটি দ্রুতগামী ‘শ্যামলী এনআর পরিবহনের’ বাস তাদের সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে আফসানা নিহত হন। সে সময় খিলক্ষেত থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাহান হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক আহত হয়েছেন এবং বাসটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।

তবে দীর্ঘ দিন পর গত ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিজা আহমেদ নামের একটি আইডি থেকে কয়েকটি পোস্ট দিয়ে আফসানার মৃত্যু নিয়ে গুরুতর সব প্রশ্ন ও অভিযোগ তোলা হয়েছে। নিজেকে আফসানার মা দাবি করে লিজা আহমেদ লেখেন, সেদিন রোজা থাকায় বিকেল ৪টার দিকে অফিস ছুটি হয়েছিল। আফসানার অফিসের পাশেই আগে থেকে ওত পেতে ছিল কোনো যাত্রী না থাকা ‘শ্যামলী এনআর পরিবহনের’ খালি বাসটি।

তাঁর অভিযোগ, আফসানার বস আব্দুল কাদের জিলানী একজন সরকারি এজেন্টকে সাথে নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কখন আফসানা অফিস থেকে বের হবেন। প্রতিদিন আফসানা প্রধান সড়ক পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে সিএনজি পেলেও সেদিন একটি সিএনজি অটোরিকশা আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষমাণ ছিল। আফসানা রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট পর থেকেই আব্দুল কাদের জিলানী ও সরকারি এজেন্ট গাড়ি নিয়ে তাঁর সিএনজিটি অনুসরণ করতে থাকেন।

লিজা আহমেদ পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, লা মেরিডিয়ান হোটেলের উল্টো পাশে পৌঁছামাত্রই শ্যামলী পরিবহনের খালি বাসটি প্রচণ্ড জোরে আফসানার সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় আফসানার মাথায় থাকা সাড়ে তিন ইঞ্চির চুলের ক্লিপটি তাঁর মাথার ভেতরে ঢুকে যায়। মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাসটি একের পর এক ধাক্কা দিতে থাকে এবং সিএনজিটিকে বাসের নিচে পিষ্ট করে ফেলে। ধাক্কার প্রচণ্ডতায় রাস্তা সংলগ্ন লোহা ও সিমেন্টের তৈরি কঠিন ডিভাইডারও ভেঙে যায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও জানান, পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি উচ্চতার আফসানাকে সিএনজির সামনের অংশ ভেঙে ওপর দিয়ে বের করতে অনেক সময় লেগেছিল। আর দূরে গাড়ি থামিয়ে পুরো ঘটনা দেখছিলেন আব্দুল কাদের জিলানী। ঘাতক বাস চালককে উদ্ধারের জন্য আগে থেকেই সেখানে কিছু লোক উপস্থিত ছিল। দুর্ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরা এক ব্যক্তির সহায়তায় চালক বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়, যা পথচারীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

লিজা আহমেদ জানান, তাঁর আইনজীবী ইতিমধ্যে ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পেনড্রাইভের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেছেন। একজন নিঃস্ব মা হিসেবে তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, শ্যামলী বাসের চালককে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। মেয়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি লেখেন, আফসানা সকালে তাঁকে ইফতারের পর বাসার কাছে মেলা থেকে ৬০ টাকা দিয়ে এক প্লেট ফুচকা খাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। তাঁর কোনো বন্ধুবান্ধব ছিল না, পড়াশোনা আর লেখালেখি ছাড়া কিছুই চাওয়ার ছিল না। মা-মেয়ে দুজন মিলে শান্তিতে বসবাস করতেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin