১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা হয়েছে: রিজভী

Published: September 19, 2026, 7:47 am

গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভীর মতে, দীর্ঘ এই সময়জুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় যে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলেছে, তাতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি জাতির জন্য শিক্ষা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা গত ১৭ বছরে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্রে শুধু প্রশ্ন লেখা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান নষ্ট হয়েছে, যা জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দিয়েছে। এমনকি ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে যে, এতে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় দক্ষ করে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা, তাই এই খাতকে ধ্বংস করলে জাতি কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে না বলে সতর্ক করেন রিজভী। তিনি শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে যথাযথ প্রণোদনা ও বিনিয়োগের দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী করতে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে নারীর শিক্ষা প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। দলটির সরকারপ্রধান তারেক রহমান নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলেছিলেন। নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুললে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy