নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে চলছে কূটনৈতিক আলোচনা

Published: September 19, 2026, 3:34 pm

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ভারত কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে এই সফরটি আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে উভয় পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এর আগে দ্য হিন্দু পত্রিকার এক প্রতিবেদনেও নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের চেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তারেক রহমানকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। তবে বিভিন্ন কারণে সেই সফর এখনো সম্ভব হয়নি। এর আগে আগস্ট মাসেও ভারত থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে অডিও লিংকের মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সফরটি পিছিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সফরটি চূড়ান্ত করতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। উভয় পক্ষই এমন একটি তারিখ খুঁজছে যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এছাড়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভারত বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানালেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাতে সাড়া দেননি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে সফরের তারিখ নির্ধারণে ঢাকা একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে। এর সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যুটি সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বারবার দাবি জানিয়ে আসছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি জটিলতা তৈরি করেছে। ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি তারা ‘পর্যালোচনা করছে’, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

উভয় পক্ষই এখন এমন একটি ‘মাঝামাঝি পথ’ খুঁজছে যাতে সফরটি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হয়। নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে রাখতে চায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী ও কার্যকর সম্পর্ক থাকলে উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে।

দুই পক্ষ এমন একটি তারিখ খুঁজছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।.২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বড় ধরনের টানাপোড়েনে পড়ে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo