গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ পরীমণির

Published: November 5, 2026, 5:50 am

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিন পরই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে হাজির হন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল ৪ নভেম্বর পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। সকাল সাড়ে ৯টার দিকেই পরীমণি আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে জামিনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। আইনজীবী আশা প্রকাশ করেন, আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করবেন।

এর আগে বুধবার সাভারের বোট ক্লাব কাণ্ডে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমণি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বাদীপক্ষ তার জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। পরীমণির আইনজীবী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমণি ও তার সহযোগীরা ক্লাবের ভেতর অ্যালকোহল পান করেন এবং এক পর্যায়ে বাদী নাসির উদ্দিনকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। বিনামূল্যে ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল দাবি করলে বাদী তাতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, এতে নাসির উদ্দিন মাথায় ও বুকে আঘাত পান। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি হিসেবে পরীমণি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছিলেন, যা বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy