নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, কারও সঙ্গে যুদ্ধ নয়: মাহিন খান

Published: November 4, 2026, 10:25 am

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত হয়েছে। নতুন নতুন উদ্যোক্তারা অভিনব ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তবে এই খাতে এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, আর সেটি হলো পুঁজি। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরু করা এবং দীর্ঘমেয়াদে তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। করোনার সময় পুরো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল, অনেকে দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন উদ্যোক্তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষের কাছে দেশীয় ফ্যাশন পৌঁছে দিচ্ছেন।

বড় পোশাক কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন দেশীয় বাজারে বড় বিনিয়োগ করছে, যার ফলে বড় পরিসরে দোকান ও বাজার তৈরি হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে দেশীয় কারুশিল্প কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁত, নকশিকাঁথা ও হাতের তৈরি কাজ ছোট উদ্যোক্তারা অনেক দিন ধরে বাঁচিয়ে রেখেছেন, যারা গবেষণার মাধ্যমে এই শিল্পকে নতুন রূপ দেন। কিন্তু বড় বাজারগুলো দ্রুত উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেয়, যেখানে মেশিন ও ডিজিটাল সূচিশিল্পের আধিপত্য থাকে। তাই ছোট পরিসরে গবেষণামূলক ও হাতে তৈরি কাজ টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দেশীয় কারুশিল্পকে এগিয়ে নিতে কেবল ভালো নকশা যথেষ্ট নয়; এর জন্য উৎপাদন, মান, নকশা এবং বিপণনের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। গ্রামের নারীরা যেন বাড়িতে বসেই কাজ করতে পারেন, সে ধরনের উদ্যোগ নিলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কারুশিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

ভৌগোলিক পরিচয় বা জিআই নিয়ে মাহীন খান বলেন, জামদানি কেবল একটি কাপড় নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্য থাকে, যা রক্ষা করা এবং সঠিকভাবে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। তিনি নিজেও পুরোনো বাংলার কাঁথার নকশা পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছেন। খুলনা, ফরিদপুর, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পের নিজস্ব পরিচয় রয়েছে, যা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে।

পোশাক ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও বিশ্বায়নের এই যুগে নিজের ঐতিহ্য ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন এই ডিজাইনার। সুতি কাপড়, হালকা রং ও আরামদায়ক পোশাক আমাদের আবহাওয়া ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই। ফ্যাশন নিয়ে মাহীন খানের প্রত্যাশা হলো, শুধু অন্য দেশের পণ্য বন্ধ করলেই হবে না, বরং আমাদের নিজেদের পণ্যকে উন্নত করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের কারও সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং আমাদের যা আছে, সেটিকে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে আরও উন্নত করতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo