টেকনাফে মাদকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাহাড়ে নির্যাতন, নিহত ১

Published: November 4, 2026, 9:12 am

কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে পাহাড়ে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোক্তার কামাল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার অপর একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশ থেকে নিহতের লাশ ও আহত দুজনকে উদ্ধার করেন স্থানীয় অধিবাসীরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজন মানুষকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধারে এগিয়ে যান। সেখানে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার বাসিন্দা মোক্তার কামালকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। একই সঙ্গে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ইলিয়াস এবং ওই এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

আহত ইলিয়াস জানান, একটি মাদকের চালান চেকপোস্ট পার করে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি দলের কাছে পৌঁছানোর সময় ডাকাত দলের সদস্যরা তা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ছিনতাই হওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা গেলেও অবশিষ্ট ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান গত সোমবার রাতে বিচারের কথা বলে তাঁদের চারজনকে ডেকে এনে হ্নীলার একটি সশস্ত্র চক্রের হাতে তুলে দেন।

ইলিয়াস আরও দাবি করেন, ওই চক্রের সদস্যরা তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে আটকে রেখে চোখ-মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে মোক্তার কামালের মৃত্যু হয়। পরে ইলিয়াস ও আলী আহমদ আহত অবস্থায় উদ্ধার হলেও তাঁদের সঙ্গে থাকা চার নম্বর ব্যক্তির কোনো খোঁজ মিলেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদকের এই চালানটির প্রকৃত মালিক হ্নীলা এলাকার একজন মাদক কারবারি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অন্য কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ এবং আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin