শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে নবীনগর-চন্দ্রা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা অবস্থান নিলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে এসে জড়ো হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, টাউজার লাইন ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীতে শ্রমিকরা সড়কে নেমে অবস্থান নিলে পুলিশ বাধা দেয়, যার জবাবে ইটপাটকেল ছুড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনরত নিউ এইজ পোশাক কারখানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন, কিন্তু পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া দেয়। এছাড়া রোববার পুলিশ তাদের কারখানার দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সকালে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা ঢুকে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। নিউ এইজ পোশাক কারখানার দুই শ্রমিককে রোববার পুলিশ আটক করায় শ্রমিকরা আজও বিক্ষোভ করছেন। ন্যায্য দাবির আন্দোলনে শ্রমিকদের আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বেলা ১১টার দিকে জানান, সকালে নবীনগর-চন্দ্রা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের পুলিশ বুঝিয়ে সরিয়ে দিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শ্রমিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, রোববার নিউ এইজ কারখানার এক শ্রমিককে আটক করা হয়েছিল।
এদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, রোববার পরিস্থিতিজনিত কারণে ১৭৭টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সোমবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় সেগুলোর মধ্যে কতটি চালু হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে সাভার এলাকার পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।





