পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন সচল রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Published: November 2, 2026, 5:01 am

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম যেন নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

সচিবালয়ে আজ রাতে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। সরকার দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চায় এবং তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। সরকার চায় এ শিল্প আরও এগিয়ে যাক, রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হোক এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক। তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও সরকার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগেই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষ আগেই প্রতিনিধি দিলেও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। গতকাল রাতে নাম পাওয়ার পর আজ সকালে মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই বোর্ডের মাধ্যমে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনা করে শ্রমিকদের জীবনমান ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন।

সহিংসতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন, হামলা, ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দিয়ে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। যারা ഇത്തരം নাশকতা ও সহিংসতায় জড়িত, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

কারখানা সচল রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin