তৈরি পোশাক খাতের চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একদল মুখোশধারী অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এতে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্দোলনের নামে যেকোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সাম্প্রতিক সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কালিয়াকৈরে পোশাক খাতের ঝুট গুদামেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গোয়েন্দা তথ্য ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহত করতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
পোশাক খাতের ঐতিহাসিক অবদান স্মরণের পাশাপাশি সরকারের লক্ষ্য পরিষ্কার করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে তৈরি পোশাক শিল্পের জনক বলা চলে এবং এই খাতে তাঁর অবদান সর্বজনস্বীকৃত। সরকার চায় পোশাক শিল্পের ধারাবাহিক উন্নতি ঘটুক এবং শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাক। পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বার্থ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। গঠন করা মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম মন্ত্রণালয়কে সে অনুযায়ী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সহিংসতার সঙ্গে প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা দায়িত্বশীল শ্রমিক সংগঠন জড়িত নয় বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আতঙ্কিত হয়ে উৎপাদন বন্ধ না রেখে মালিকদের উচিত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কারখানা চালু রাখা, যাতে কোনো রপ্তানি সংকট তৈরি না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আতঙ্কের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর অচলাবস্থা দ্রুতই কেটে যাবে।
এর আগে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, শ্রমিক অসন্তোষের কারণ ও করণীয় নির্ধারণে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।





