গ্রিনল্যান্ড নিরাপত্তা চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও ডেনমার্কের অবস্থান

Published: September 19, 2026, 8:58 am

আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে সমঝোতায় পৌঁছেছে। ২০০৯ সালের সেল্ফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্টে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হলেও বৈদেশিক, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির দায়িত্ব এখনো ডেনমার্কের হাতে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ওই অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো। ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতার ঘোষণা দেন। যদিও চুক্তিটি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে এটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।

প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রবেশাধিকার, নতুন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ এবং আকাশপথ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলা হবে। তবে এ বিষয়ে কতজন সেনা মোতায়েন করা হবে বা কত অর্থ ব্যয় হবে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রিনল্যান্ডে নন-ন্যাটো দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নিষিদ্ধ করা। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং কৌশলগত অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা বলয়ের অংশ হিসেবে নিশ্চিত করবে। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করেছেন, এই চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত থাকবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেনও বিষয়টিকে দ্বীপটির নিরাপত্তা জোরদারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য যে, এই সমঝোতাটি ১৯৫১ সালের গ্রিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ২০০৪ সালের আইগালিকু চুক্তির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। পিটুফিক স্পেস বেস (সাবেক থুলে এয়ার বেস) আর্কটিক অঞ্চলের নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা নতুন চুক্তির ফলে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এই নিরাপত্তা চুক্তির কিছু ধারা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি দলিল এখনো প্রকাশিত না হওয়ায় বেশ কিছু প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক ঘাঁটির নির্দিষ্ট অবস্থান, অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয়ভার এবং মার্কিন কার্যক্রমের ওপর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার পরিধি। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ হাজার ৭৪০ জন জনসংখ্যার এই স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটি তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বরাজনীতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy