মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে ইরানের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ নামক এই আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের ওপর আগে আরোপিত যে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা এখন আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধি পেল।
নতুন এই আইনটি কেবল ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদই বাড়ায়নি, বরং রাশিয়া ও ইরান উভয় দেশের বিরুদ্ধে বিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক এবং অন্যান্য বিধিনিষেধের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করবে। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা বিদেশি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীনে যায়, যারা ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এর আগে ইরান থেকে তেল বিক্রি ও পরিবহনে সহায়তার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত এবং হংকংয়ের বিভিন্ন তেল ব্যবসায়ী, জাহাজ কোম্পানি ও ট্যাংকার পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ, মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের সুযোগ বাতিল এবং ডলারে লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
তেহরান ওয়াশিংটনের এই নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। আইনটির নামকরণ করা হয়েছে গত জুলাই মাসে প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে। তিনি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের একজন জোরালো সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন।





