চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নতুন আইন করছে পুলিশ, জানালেন আইজিপি

Published: October 24, 2026, 12:07 pm

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি জানান, আইনটি কার্যকর হলে প্রমাণের ভিত্তিতে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ সরাসরি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে জনগণের সঙ্গে বাহিনীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই জনআস্থা ফিরিয়ে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে আরও কার্যকর করতে তিনি খুলনায় এসেছেন। আলী হোসেন ফকির জানান, বর্তমানে মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া এখন থেকে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধীদের মধ্যে কেউ খুন হচ্ছে, আবার কেউ খুনের সঙ্গে জড়াচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে বলপ্রয়োগ করলে সমালোচনা, আর না করলে দুর্বলতার অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মাদক সমাজে বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে, তবে বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইজিপি জানান, সে সময় বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অনুপস্থিতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চললেও বর্তমানে সব জায়গায় পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বেকারত্বের মতো সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলী হোসেন ফকির জানান, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও অনেকে একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যা নির্মূলে কার্যকর নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। চাঁদাবাজদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী বা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে চাঁদাবাজি চলে এবং ভয়ের কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে বা সাক্ষ্য দিতে চান না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin