ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Published: October 24, 2026, 1:48 pm

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর লক্ষ্যে তোড়জোড় চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা, বিমানবাহী রণতরিতে শক্তিশালী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই করা এবং ইসরাইলের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতি বাড়ায় পুরো অঞ্চলে আবার বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এবং মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিষয় সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা পাঠাচ্ছে। এর মধ্যে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক এসব পদক্ষেপকে তেহরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক अभियाানের সংকেত বলে মনে করছেন। সম্ভাব্য এই অভিযানের সময় নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে; মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন যে সপ্তাহান্তেও হামলা হতে পারে। আবার কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই অভিযান শুরু হতে পারে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, বর্তমানে আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, সম্ভাব্য ভারী আকাশ হামলার অংশ হিসেবে রণতরিটিতে দূরপাল্লার স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ শক্ত অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা মজুত করা হচ্ছে। রণতরিতে বিরল সফরের সময় সাংবাদিক শেলবি হলিডে গোলাবারুদের বাক্সের স্তূপ দেখতে পান। সেখানে অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি যুদ্ধবিমানগুলোকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত রাখতে দেখা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র এবং সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা বজায় রাখতেই মার্কিন বাহিনী এই আগাম অবস্থান তৈরি করছে।

বর্তমান এই চরম উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহত আক্রমণ, ইরানের বিভিন্ন বন্দরে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত পথ কেন্দ্র করে সংকট। গত সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী হামলাগুলোতে ইরানের প্রচলিত সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে, যা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে সংঘাতের দ্রুত অবসান সম্ভব। তবে কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান মিলবে নাকি নতুন এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের সূত্রপাত হবে—তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin