নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন সহায়তা বন্ধের প্রস্তুতি নিতে বললেন নেতানিয়াহু

Published: October 24, 2026, 5:51 am

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে ইসরাইল। এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অবরোধ এড়াতে এবং আর্থিক লেনদেন সচল রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে শুক্রবার দেশটির অর্থনীতি সম্পর্কিত এক সাক্ষাৎকারে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

অনলাইন টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের ব্যাংকিং খাতের ওপর যে কোনো সময় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। সে কারণে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন। সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী বিকল্প হিসেবে বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করলে নেতানিয়াহু তাতে সায় দেন। তিনি জানান, প্রযুক্তিটি কীভাবে ব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে তিনি ইতোমধ্যে উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বৈশ্বিক আর্থিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়, কারণ ব্লকচেইনের অনেক লেনদেনের তথ্য ও গতিবিধি চিহ্নিত করা যায়। তবে নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে চ্যানেল টুয়েলভকে দেওয়া বক্তব্যে ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা জানান, ক্রিপ্টো দিয়ে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় এবং এটি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করাও দেশটির অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বর্তমানে পশ্চিম তীরের বিতর্কিত ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর ব্রিটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সরকারের অনুমতিতে ব্যাপকভাবে বসতি বিস্তারের জবাবে ব্রিটেন এই পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত মাসে অর্থনীতিবিদ ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে, এসব নিষেধাজ্ঞার আর্থিক প্রভাব এখন পশ্চিম তীর ছাড়িয়ে ইসরাইলের মূল অর্থনীতিতেও আঘাত হানতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিরোধীদের দাবি, নেতানিয়াহু সরকারের ভুল নীতির কারণেই ইসরাইল আজ নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে।

একই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা কমে যাওয়ার অনিবার্য বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। ইসরাইলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বছরে কোটি কোটি ডলারের যে অস্ত্র ও সামরিক সাহায্য আসে, তা চিরকাল বহাল থাকবে না। নেতানিয়াহুর ভাষায়, তিনি অতীতে দুবার ওয়াশিংটন থেকে হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা তহবিল নিশ্চিত করলেও ভবিষ্যতে সেটি আর পাওয়ার আশা করা ভুল হবে। আমেরিকা তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে বদলে গেছে, ইসরাইলের পরিবর্তনের কারণে নয়। এটি একটি সমাপ্ত অধ্যায় এবং এটি বন্ধ হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। যদিও সমালোচকদের মতে, নেতানিয়াহুর একগুঁয়ে নীতির কারণে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক সমর্থন দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

নেতানিয়াহুর এসব বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এখন স্বীকার করছেন যে তার সরকার ফের ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় পড়ে পণ্যমূল্য অনিয়ন্ত্রিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। এছাড়া ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ দলের প্রধান ইয়াইর গোলান এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, নেতানিয়াহু আবারও বাস্তবতাবিমুখ ও উন্মত্ত আচরণ করছেন এবং তিনি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin