গলাচিপায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলায় পুলিশসহ আহত ২

Published: October 24, 2026, 7:06 am

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে অবৈধ জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর যৌথ দল। এতে এক পুলিশ কনস্টেবল ও অভিযানের স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম ও স্পিডবোটের চালক মো. Shahjalal (মো. শাহজালাল)। তাঁদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নদীর ওই অংশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে স্পিডবোটে করে অভিযানে যান মৎস্য ও পুলিশ বিভাগের সদস্যরা। নদীতে একাধিক ট্রলারে মাছ ধরতে দেখে একটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০ মিনিট ধাওয়া করে স্পিডবোটটি ভিড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় ট্রলারে থাকা জেলেরা বৈঠা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অভিযানকারীদের ওপর পাল্টা হামলা চালান। এতে স্পিডবোটের চালক শাহজালাল ও পুলিশ কনস্টেবল জসিম আঘাত পান।

অভিযানে অংশ নেওয়া মৎস্য বিভাগের কর্মী সুধাংশু জানান, ধাওয়া করে কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রলার থেকে স্পিডবোটের চালককে বৈঠা দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন জেলেরা। তখন চালককে বাঁচাতে সামনে এগিয়ে গেলে কনস্টেবল জসিমের হাতে বৈঠার ঘা লাগে। এতে তাঁর হাত কেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং গুরুতর জখম হন। ঘটনার পরই আক্রমণকারী জেলেরা দ্রুতগতির ডাবল ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে একটি ট্রলারে ১০ থেকে ১২ জন বেআইনিভাবে ইলিশ ধরছিলেন। তাঁদের আটক করার চেষ্টা চালালে স্পিডবোটে হামলা হয় এবং এক পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই সময় নিজে স্পিডবোটে উপস্থিত ছিলেন না জানিয়ে তিনি বলেন, অধস্তন কর্মীদের মাধ্যমেই পুরো ঘটনা জানতে পেরেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো জেলেকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও সংঘাতের এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy