স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নাহিদ ইসলামের

Published: October 23, 2026, 3:16 pm

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের পরিবর্তে সংবিধান নিয়ে বেশি ব্যস্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় জ্বালানিমন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুই মন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি। আপাতত এই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠনের দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

কারওয়ান বাজার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এই এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাবাজার ও সবজির কেন্দ্র, যেখানে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ রয়েছে। সারা দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এনসিপি সবসময় মানুষের পাশে থাকবে।

আগামী ৩০ অক্টোবর দুপুর ৩টায় ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন নাহিদ ইসলাম। এই আন্দোলনের চারটি প্রধান কারণ হিসেবে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের কথা উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচির পর সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ পালিত হবে বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা বাড়ছে। তিনি ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যা, পরদিন সীতাকুণ্ডে সাংবাদিকের ওপর গুলি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টানেন। এছাড়া ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সয়াবিন তেল ২০০-২১০ টাকা, টমেটো ১৬০-২০০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৮০-৪৫০ টাকা এবং ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। এলপিজি গ্যাসের দাম সরকারি হিসাবে ১,৮০০ টাকা এবং বেসরকারিভাবে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার বিষয়টিতেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি ভেঙে দিয়ে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এছাড়া সাইবার আইনের সংশোধনী বাতিল, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত আইনগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সবশেষে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবে তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে অপপ্রচার চালানোর সমালোচনা করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin