বিশ্বকাপ ও শীর্ষ ফুটবল টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল ও ক্ষমা চাওয়ার পর এবার ফিফা সভাপতি পুনর্নির্বাচনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নিঃশর্ত সমর্থন পেয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। জাপানের টোকিওতে আয়োজিত এএফসির এক বিশেষ কংগ্রেস বৈঠকে ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস নাগরিকের নেতৃত্ব ও আসন্ন প্রার্থিতার প্রতি এশীয় অঞ্চলের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিশেষ কংগ্রেসে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনো। সেখানে এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর পক্ষে তার প্রতি স্পষ্ট সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জানান, অতীতে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ ও আলোচনা হলেও অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফুটবলকে শক্তিশালী করতে এখন সবাইকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ইনফান্তিনো এশিয়ার অনেক দেশ সফর করায় এ অঞ্চলের ফুটবলের প্রতি তার অঙ্গীকার প্রকাশ পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গত আগস্টে ফিফার বিশ্বমানের প্রতিযোগিতাগুলোর স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ নিয়ে তীব্র সংকটে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। উয়েফা ও কনকাকাফের পাশাপাশি এএফসির চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছিল যে একের পর এক জাতীয় অ্যাসোসিয়েশন সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছিল। শেষপর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত সপ্তাহে নিজের ওই সিদ্ধান্তের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান ফিফা প্রধান।
আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন, যেখানে প্রার্থিতা জমার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ নভেম্বর। চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের লড়াইয়ে নামা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর একাংশ এখনও সরব রয়েছে এবং বেশ কিছু প্রভাবশালী অ্যাসোসিয়েশন সমর্থন ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার বিপরীতে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ঘোষণা না দেওয়ায় এবং এশিয়ার পূর্ণ সমর্থন মেলায় ইনফান্তিনোর আবারও ফিফা সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই জোরালো হলো।





