জাপান সফরে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা বাংলাদেশের

Published: October 23, 2026, 5:17 pm

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রায় আটটি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত পর্যায়ে কতটি দলিল সই হবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, তারা আশা করছেন সফরকালে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।

সফরকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অর্জন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এই যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার অগ্রাধিকারগুলো স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে নতুন গতি সঞ্চারের সুযোগ। তিনি কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদনশীলতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গুণগত মান ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা এবং মাঝারি আকারের জাপানি কোম্পানি ও বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে এবং কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা উচিত। অধ্যাপক চৌধুরী সফর শেষে একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা থাকবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং এরপর মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এছাড়া তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন। কর্মসূচির মধ্যে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি, জাইকা প্রেসিডেন্ট, জেবিআইসি গভর্নর, জেট্রো প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া তিনি চিবা অঞ্চলের একটি এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করবেন।

অবকাঠামো প্রকল্পের অর্থায়ন ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে আলোচনায় আসবে। বাংলাদেশ সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে আগ্রহী। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা থাকবেন এবং প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin