ঈদগাঁও থানা হাজত থেকে পালায় কিশোর, পরদিন রামু থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার

Published: October 23, 2026, 1:50 pm

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা হাজত থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোর আসামি পালিয়ে যাওয়ার পরদিন অভিযান চালিয়ে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে রামু উপজেলার কলঘর মহাসড়ক এলাকা থেকে তাকে ফের আটক করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে থানা হাজত থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় ওই কিশোর। সুরক্ষিত স্থান থেকে আসামি পলায়নের ঘটনা এবং ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আটক কিশোর আব্দুল্লাহ রামু উপজেলার উমখালী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণি সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা মো. কালু মিয়ার ছেলে। পুলিশ সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ এবং তা বহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আটক করেছিল পুলিশ। ওই দিন রাতে তাকে ঈদগাঁও থানা হাজতে রাখা হলে সে টয়লেটে যাওয়ার অজুহাতে সুযোগ বুঝে চতুরতার সঙ্গে পালিয়ে যায়।

চাঞ্চল্যকর এ পলায়নের ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতে ঘটলেও পুরো রাত এবং পরদিন শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের অগোচরে রাখা হয়েছিল। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পলায়নের পর থেকেই ওই কিশোরকে ধরতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। ওসির নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ দল রামুর বিভিন্ন এলাকা ও মহাসড়কে তল্লাশি চালায়। এ সময় বিভিন্ন মানুষকে হারিয়ে যাওয়া কিশোরের ছবি দেখানো হলেও ঠিক কী কারণে তাকে খোঁজা হচ্ছে, তা কৌতূহলী জনতার কাছে স্পষ্ট করেনি পুলিশ। তল্লাশিকালে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বেশ উদগ্রীব ও আতঙ্কিত দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

থানা হাজত থেকে পলায়নের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, রাতে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কিশোরটি কৌশলে হাজত থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। পরে পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে শুক্রবার বিকেলে তাকে কলঘর এলাকা থেকে ফের আটক করতে সক্ষম হয়। তবে ঠিক কী অপরাধে তাকে আটক করা হয়েছিল—জানতে চাইলে ওসি বলেন, তাকে বিপুল পরিমাণ মদসহ ধরা হয়েছিল। তবে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, "তাকে 'আসামি' লেখা যাবে না। কারণ সে ১৬ বছর বয়সি শিশু; সে আইনের সঙ্গে সংঘাতভিত্তিক অপরাধে জড়িত।" ওসির এমন আইনি ব্যাখ্যা ও মন্তব্যে স্থানীয় সাংবাদিক এবং সচেতন নাগরিকদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

থানা হাজতের মতো সুরক্ষিত স্থান থেকে একজন আটক ব্যক্তি কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে পালিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এলাকার সচেতন মহলের মতে, মাদক চক্র কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ভেতরের কারও যোগসাজশে তাকে পালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে অথবা এটি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের চরম গাফিলতির ফল। সম্প্রতি ঈদগাঁও উপজেলায় একের পর এক ডাকাতি ও গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ২৮আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ২৮

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh