রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এর আগে গত বুধবার গভীর রাতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে নগরীতে প্রবেশ করেন এবং পরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি একই বাসে করে বিমানবন্দরে ফিরে যান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানালে তিনি চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন।
এই বাসযাত্রার ছবি ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইয়াছিন পাইক জানিয়েছেন, আবু বকর সিদ্দিকের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
গত মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।





