রাশিয়ায় শুক্রবার থেকে তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম যুদ্ধকালীন পার্লামেন্ট নির্বাচন। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া রোববার পর্যন্ত চলবে। কর্তৃপক্ষ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সপ্তাহজুড়ে ভোটের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অনলাইনে ভোট দেওয়ার সুযোগও রেখেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার শেষ নাগাদ দেশটির ১১ কোটি ১০ লাখ যোগ্য ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে অনলাইন ভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউক্রেনের কাছ থেকে দখল করা অঞ্চলগুলোতেও এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই এবং ক্রেমলিনের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ক্রেমলিন চাইছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন প্রদর্শন করা হোক এবং তাদের কার্যক্রমের জন্য একটি বৈধতার আবরণ তৈরি করা হোক। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার অনলাইনে ভোট দিয়েছেন এবং কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে তার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। ভোটের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পুতিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের পছন্দ ও দৃঢ়তা আবারও প্রমাণ করবে যে লাখ লাখ মানুষ আমাদের যোদ্ধাদের পাশে রয়েছে। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি, অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসায় আবদ্ধ।
নির্বাচনে স্টেট ডুমা’র ৪৫০টি আসনের অর্ধেক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক একক আসনভিত্তিক নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে পূরণ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্রেমলিনের প্রধান রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড রাশিয়া নিম্নকক্ষে তাদের বিপুল নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। এছাড়া ‘সিস্টেমিক অপোজিশন’ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ছোট দলও পার্লামেন্টে অবস্থান ধরে রাখবে, যারা সাধারণত সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একই অবস্থানে ভোট দেয়।
নির্বাচন নিয়ে সাধারণ রুশ নাগরিকদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত লক্ষ্য করা গেছে। মস্কোর বাসিন্দা দিমিত্রি কিরিলিন পরিবর্তনের প্রত্যাশা করলেও আলেকজান্ডার ভার্তুখিন বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাকেই যথেষ্ট মনে করছেন। পেনশনভোগী গালিনা ভাভিলোভা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে অধ্যাপক ভ্লাদিমির চুবারেভ সরকারের উদ্যোগের সফলতা ও বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ ভিন্নমতের প্রকাশ কঠোরভাবে দমন করেছে। যুদ্ধের সমালোচনা করার দায়ে একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন ইয়াবলোকো পার্টিকে গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের ব্যালট থেকে বাদ দিয়েছে। এছাড়া যুদ্ধবিরোধী অনেক রাজনীতিককে প্রচারণার আগেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে অথবা বিদেশে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
ক্রেমলিন চাইছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথম এই পার্লামেন্ট নির্বাচন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন তুলে ধরুক এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য এক ধরনের বৈধতার আবরণ তৈরি করুক। রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ সামান্যতম ভিন্নমতের প্রকাশও দমন করেছে। ভোটের আগে জাতির উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ভ্
নির্বাচন নিয়ে এপির সঙ্গে কথা বলা রুশ নাগরিকদের প্রত্যাশা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। মস্কোর বাসিন্দা দিমিত্রি কিরিলিন চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেন, তিনি কিছু পরিবর্তন দেখতে চান। নেতৃত্বে অন্য কোনো দলকে দেখতে চান। তবে মস্কোর আরেক বাসিন্দা আলেকজান্ডার ভার্তুখিন মনে করেন, ইউনাইটেড রাশিয়া এবং কমিউনিস্টরা যা করছে, তা যথেষ্ট। তাদের কর্মসূ





