চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবার গবেষণা শাখা ডামো একাডেমি একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল উন্মুক্ত করেছে, যা ক্যানসারসহ পেটের বিভিন্ন অঙ্গের প্রায় ১৫০ ধরনের রোগ ও অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সক্ষম। ‘ডামো রাডার’ নামের এই ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলটি মূলত কম্পিউটেড টমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যান বিশ্লেষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি পেটের ১৮টি অঙ্গের ছবি পর্যালোচনা করে ক্যানসার ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমারসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা শনাক্ত করতে পারে।
ডামো একাডেমি শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, মডেলটিকে প্রশিক্ষণের জন্য রোগীদের সিটি স্ক্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিবেদন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার বাস্তব রোগীর পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৪৬টি চিকিৎসাসংক্রান্ত অস্বাভাবিকতা শনাক্তের ক্ষেত্রে মডেলটির গড় এইউসি (এরিয়া আন্ডার দ্য কার্ভ) স্কোর ছিল ০.৯১৩। এআইয়ের রোগ শনাক্তের সক্ষমতা পরিমাপে ১.০ স্কোরকে নিখুঁত নির্ভুলতা ধরা হয়। গবেষকদের মতে, এটি বিশ্বের প্রথম ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সাধারণ চিকিৎসা-ইমেজিং মডেল’, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য চিকিৎসা ছবি বিশ্লেষণেও কার্যকর হতে পারে।
গবেষণায় ২৬ জন রেডিওলজিস্টের সঙ্গে মডেলটির কার্যকারিতা তুলনা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, ২৬ জনের মধ্যে ২৩ জনের চেয়ে এই এআই মডেলটির গড় নির্ভুলতা ছিল বেশি। চিকিৎসকরা এই মডেল ব্যবহার করে রোগ শনাক্তের ভুল প্রায় ১০ শতাংশ কমাতে পেরেছেন এবং রোগ নির্ণয়ের সময় ৩০ শতাংশের বেশি সাশ্রয় হয়েছে। গবেষণাটি বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে আলিবাবার পাশাপাশি ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হাসপাতালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
আলিবাবা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে জোর দিচ্ছে। ডামো একাডেমি অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের মতো রোগের স্ক্রিনিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া তারা অ্যাওর্টিক ডিসেকশনের মতো গুরুতর রোগ শনাক্তের প্রযুক্তিতেও কাজ করছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ‘কোকা’ নামের আরেকটি মডেল উন্মুক্ত করেছিল প্রতিষ্ঠানটি, যা প্রাথমিক পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসার শনাক্তে রেডিওলজিস্টদের চেয়েও বেশি সংবেদনশীল বলে দাবি করা হয়েছিল।





