তাইওয়ানভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট আসুসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং এশিয়া প্যাসিফিক কমার্শিয়াল বিজনেসের মহাব্যবস্থাপক রেক্স লি বাংলাদেশকে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি নতুন ল্যাপটপ উন্মোচন উপলক্ষে ঢাকা সফরে এসে প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০০৭ সালে আসুসে যোগ দেওয়ার পর থেকে এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কৌশল ও বাজার সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে আসুসের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) পিসির চাহিদা এবং স্থানীয় বাজারে বিনিয়োগের নানা দিক তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে রেক্স লি বলেন, ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে এখানকার বাজারের আকার খুব বড় না হলেও আগামী কয়েক বছরে তা অনেক বড় হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কম্পিউটারের বাজারে শীর্ষ ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আসুস। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষানুষ্ঠান, করপোরেট এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মতো সব ক্ষেত্রে নিজেদের বিপণন ও বিক্রয় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে আসুসের পণ্য উৎপাদন বা সংযোজনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন।
প্রযুক্তি বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব ও চাহিদা সম্পর্কে রেক্স লি বলেন, এআই মানুষের উৎপাদনশীলতা অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি মাথায় রেখে আসুস এখন যন্ত্রভিত্তিক (অন-ডিভাইস) এআই সমাধান নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে গ্রাহকেরা সরাসরি ডিভাইসের ভেতরে এআই ব্যবহার, ডিভাইস ও অনলাইনের সমন্বিত পদ্ধতি অথবা সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। তিনি মনে করেন, যাঁরা এআই ব্যবহার করবেন, তাঁরা অন্যদের চেয়ে প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।
বিশ্ববাজারে র্যাম ও এসএসডির দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীর কাছে উন্নত ল্যাপটপ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে রেক্স লি জানান, এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতা হলেও আসুসের সদর দপ্তর কিছু ডিডিআর৪ র্যামের মজুত নিশ্চিত করতে পেরেছে। চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক এবং আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে এসব মেমোরিযুক্ত ল্যাপটপ বাজারে আনা হবে, যা গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসুসের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা এ দেশে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে চান। এর অংশ হিসেবে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যালয় আরও বড় জায়গায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের তরুণদের ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রোগ্রামিং এবং সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে এ দেশের তরুণরা বেশ শক্তিশালী। এই দক্ষতাগুলোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নতুন কিছু উদ্ভাবন ও নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে বাজারে এগিয়ে থাকা যায়।
এতে মেমোরির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে বলে আমরা মনে করি।.আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে আসুসের কী লক্ষ্য রয়েছে?.রেক্স লি: আমরা বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসা আরও বাড়াতে চাই।





