পাঠ্যবই ছাপানোয় অনিয়ম ও ধীরগতি, নতুন শিক্ষাবর্ষে অনিশ্চয়তা

Published: October 15, 2026, 4:17 am

নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, দরপত্রে অনিয়ম এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই পরিস্থিতির পাশাপাশি মুদ্রণকাজের ধীরগতি, বিদ্যুৎ সংকট এবং নিম্নমানের বই বাতিলের কারণে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছানো নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগে ডিসেম্বরেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কাজের ধীরগতির কারণে সেই লক্ষ্য থেকে পিছু হটছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে। তিনি একইসঙ্গে বইয়ের মানের বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রাক্কলিত দর ফাঁস হয়েছে এবং পরবর্তীতে ৭৫ জন মুদ্রণশিল্প মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এনসিটিবির তথ্যমতে, মাধ্যমিকের বই ছাপায় ফর্মাপ্রতি গড় কার্যাদেশের দর ২০২৬ সালের ২.৩১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ৩.৩২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২৫ লাখ রিম কাগজের হিসাব ধরলে এতে প্রায় ২৫২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। এছাড়া ৪৫টি দরপত্রের মধ্যে ৩০টিতেই একক দরপত্র জমা পড়ায় প্রতিযোগিতার ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিলে এনসিটিবির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল প্রাথমিক প্রাক্কলনের কপি, দাপ্তরিক মূল্যতালিকা এবং বোর্ডের ৪২৩তম সভার কার্যবিবরণীসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যদিও এনসিটিবির কর্মকর্তাদের দাবি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মালিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের অনুমোদন নিয়েই দর সমন্বয় করা হয়েছে।

বইয়ের গুণমান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজধানীর মাতুয়াইলে ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করে নির্ধারিত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এর আগে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের দায়ে প্রায় তিন লাখ বই ফেরত নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। এবার প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি, ইবতেদায়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর লক্ষ্য রয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ১,৮৯০ কোটি টাকা।

ছাপাখানা মালিকদের ভাষ্যমতে, দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মানসম্মত বই প্রস্তুতের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং সময়মতো কাজ শেষ না হলে চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এনসিটিবির সচিব শাহ মুহাম্মাদ ফিরোজ আল ফেরদৌস জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে তদন্তের অগ্রগতি এবং সময়মতো বই বিতরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh