ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এই হামলায় ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এই ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলার আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-সাবাহ তেল স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। হুথিসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, নির্দেশনার পরপরই সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি জোটের মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে, হুথিরা আল-সাবাহ স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত এবং সামরিক কাজে ব্যবহার করছে। তবে ইয়েমেনের তেল কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার আগেই তাদের তেল সংরক্ষণাগারগুলো খালি করে ফেলা হয়েছিল।
হুথিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সানায় যেকোনো হামলার কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক জবাব দেওয়া হবে এবং রিয়াদকে লক্ষ্য করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি এই উত্তেজনার মধ্যে সৌদি জোট রাস ইসা বন্দর এবং হোদেইদা প্রদেশের হুথিনিয়ন্ত্রিত একটি তেল স্থাপনায়ও বিমান হামলা চালিয়েছে। উভয় পক্ষ থেকে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানীর একটি তেল শোধনাগারের আশপাশের বাসিন্দা ও কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ২৪আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৩৪





