সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তর: ক্রেতা ও নির্মাতা উভয়ের জন্য লাভজনক

Published: October 13, 2026, 6:46 am

নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসইএল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই গুণগত মান এবং প্রতিশ্রুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নকশাগত সৌন্দর্যের চেয়ে ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, কারণ জীবনের সুরক্ষায় কোনো আপস করা চলে না। এছাড়া মানসম্মত ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর করা তাদের ব্যবসার মূল ভিত্তি। সময়মতো ফ্ল্যাট না পেলে ক্রেতা বা জমির মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, আবার নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করায় বিলম্ব হলে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানও লোকসানের সম্মুখীন হয়। তাই এই নীতি উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক।

আবাসন একটি মৌলিক চাহিদা হলেও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের কারণে বর্তমানে ফ্ল্যাট কেনা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আবদুর রহমান মনে করেন, সরকারি পর্যায়ে ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধাসহ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকঋণের সুদের হার সহনীয় করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে।

ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও উন্নত মানের নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। ডিজাইন দুর্বল হলে ভালো মালামাল ব্যবহার করেও লাভ হয় না। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে নকশা ও উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি ভবনের ভেতরে নিরাপদ স্থান এবং জরুরি বহির্গমন পথ সুনির্দিষ্ট রাখা হয়। এছাড়া জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় বিধিমালা অনুযায়ী প্লটের একটি অংশ উন্মুক্ত রাখা হয়, যাতে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হতে পারে। বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে অনেক প্রকল্পে অতিরিক্ত পার্কিং না করে মাটি উন্মুক্ত রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের দিকেও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব ও তাপপ্রতিরোধী ব্লকের ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, যা এসির ওপর নির্ভরতা কমায়।

বর্তমানে একক পরিবার বৃদ্ধির ফলে ক্রেতারা কম রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য ও ৯০০ থেকে ১২০০ বর্গফুটের কম্প্যাক্ট ফ্ল্যাট পছন্দ করছেন। আধুনিক ক্রেতাদের চাহিদায় এখন ওপেন কিচেন, ফ্লেক্সিবল ফার্নিচার এবং ভবনের ভেতরে জিম, রানিং ট্র্যাক ও কমিউনিটি স্পেসের মতো যৌথ সুবিধা যুক্ত হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে ফ্ল্যাটের দাম স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মালামালের দাম ১০০ টাকা বাড়লে ফ্ল্যাটের দামে ২০০ টাকার প্রভাব পড়ে, কারণ ডেভেলপারকে জমির মালিকের অংশও তৈরি করতে হয়। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে তারা পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিং, আইএফসির এজ (EDGE) সার্টিফায়েড আবাসন, স্মার্ট প্রযুক্তি, সেন্সর লাইট ও বর্জ্য শোধনব্যবস্থার সমন্বয়ে নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo