সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হুতিদের বিভিন্ন সামরিক অভিযান ও হামলা পরিচালনায় সরাসরি সমন্বয় করছে ইরান। এসব কর্মকাণ্ডে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইব্রাহিম জালাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতির পেছনের কৌশলগত বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
ইব্রাহিম জালালের ভাষ্যমতে, সৌদি আরবের ভেতরে দূরপাল্লার আঘাত হানতে হুতিরা যেসব উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে, তা নিয়মিতভাবে ইরান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেবল অস্ত্র জোগান দেওয়াতেই তেহরানের ভূমিকা সীমাবদ্ধ নয়; হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ জোরদারে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞরা সরাসরি সেখানে কাজ করছেন। এসব তৎপরতা যৌথভাবে অনুমোদিত ও সমন্বিত হলেও প্রকাশ্যে তা স্বীকার করা হয় না। তবে আঞ্চলিক সংঘাতের মাত্রা নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সুনির্দিষ্ট নিজস্ব কৌশল রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবানন ও সিরিয়ায় একের পর এক বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’। এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের অবস্থান সুসংহত ও শক্তিশালী রাখতে হুতি বিদ্রোহীরা সংঘাত বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী অঞ্চলে হুতিদের আরও শক্তিশালী ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক মিত্রদের মাঝে হুতিদের একটি কার্যকরী শক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখতে চায় ইরান।





