পরাজিত শক্তি স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্ত করছে: রুহুল কবির রিজভী

Published: October 12, 2026, 8:03 am

পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা দেশের সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও নাশকতা প্রতিহত করতে দলটির নেতাকর্মীরা ‘ঘুমহীন প্রহরীর’ মতো সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছেন। পাহারার সুবিধার্থে প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নজরদারি চালাবেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

সোমবারে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ্‌র ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার চক্রান্ত এখনো সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নাশকতার চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে আগের দিন অবসরপ্রাপ্ত দুই সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দেন, পূজাকে ঘিরে পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা চালাতে পারে, যা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং জোরপূর্বক অন্যের জমি ও সম্পদ দখলের যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, বিএনপি কখনোই সেই ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। শান্তিময় পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই বিএনপির মূল রাজনৈতিক আদর্শ।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সতর্ক বার্তা দিয়ে রিজভী বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মী নিজেদের বর্তমান সরকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করবেন। তাই তাদের আচরণ বা কর্মকাণ্ডে যেন কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ না ঘটে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম ও অগণিত ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই রাজনৈতিক পরিবেশ অর্জিত হয়েছে। ফলে কোনো পদ-পদবির মোহ, রাতারাতি ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা বা ঠিকাদারি ব্যবসার লোভে পড়ে দলের দীর্ঘদিনের আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না।

দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী ব্যাখ্যা করেন, মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ডিজেল আমদানিতে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতেও সরকার উদ্যোগী ভূমিকা পালন করছে।

গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin