রাজশাহী জেলায় নতুন ৬৯ জন সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশে ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৭২টি ইউনিয়ন ও ১৪টি পৌরসভার মধ্যে বাগমারার ১৮ জন বাদে ৬৯ জন নতুন সার ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি এই তালিকা রাজশাহী জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠায়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মনোনীত ডিলারদের প্রায় সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী কিংবা তাদের পরিবারের সদস্য। তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজশাহীর নতুন ৬৯ সার ডিলারের মধ্যে অন্তত একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী রয়েছেন, বাকিরা সবাই বিএনপি সংশ্লিষ্ট।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং জেলার তিনজন সংসদ সদস্যসহ মাত্র ৫ জন উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহীর তিন সংসদ সদস্যের দেওয়া তালিকা থেকেই এই ডিলার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে থেকে প্রতিটি এলাকার জন্য তিনটি করে নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল এবং তালিকার ১ নম্বর সিরিয়ালে থাকা ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিকে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কেবল একটি ‘আইওয়াশ’ হিসেবে দেখছেন, কারণ লটারির মাধ্যমে নিয়োগের দাবি থাকলেও রাজনৈতিক চাপে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। চারঘাট উপজেলার জিনিয়া পারভিন, ইসরাত জাহান, সাইফুল ইসলাম ও সুরভি আক্তার শিখাসহ বিভিন্ন ডিলার সরাসরি বিএনপি নেতাদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্য। পুঠিয়া পৌরসভায় নিয়োগ পাওয়া মেসার্স ফারিশ ট্রেডার্সের মালিক সাহেদ হাসান রাজশাহী-৫ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম মণ্ডলের নাতিজামাই। জেলার মোহনপুরের ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া শাপলা ট্রেডার্সের মালিক উমর ফারুক বিএনপি সভাপতি আব্দুল মালেকের ছেলে। বাঘা উপজেলার রুবেল আলী, জিয়ারুল, জোবাইদা খাতুন, আব্দুল মমিন ও শফিকুল ইসলাম এবং তানোরের এমদাদুল হক মণ্ডল, ফরহাদ কবির, তানভীর আহমেদ, উম্মুল মোমেনিন খান ও শাহনেওয়াজসহ অনেকেই বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এছাড়া পবা, গোদাগাড়ী ও দুর্গাপুর উপজেলায় নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের প্রায় সবাই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা বা তাদের পরিবারের সদস্য।
এ বিষয়ে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই তারা সুপারিশ করেছেন এবং কেউ দলীয় রাজনীতি করেন কি না, তা তাদের জানার সুযোগ নেই। অন্যদিকে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ দাবি করেছেন, তারা কোনো তালিকা দেননি এবং প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করেছে।
এদিকে বাগমারা উপজেলার ১৮ জন ডিলার নিয়োগের বিষয়টি আটকে আছে। তালিকা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সার ডিলার নিয়োগ আটকে দিয়েছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী। তিনি তার এলাকায় দলীয় ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ না করার জন্য কৃষি সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।





