চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মেকানিক্যাল টেকনোলজির ষষ্ঠ পর্বের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জমির উদ্দিন নাহিদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। গত শনিবার বিকেলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তী সময়ে রোববার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ইনস্টিটিউট সূত্রের খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সেখানে গুণীজন সংবর্ধনা এবং মেধাবৃত্তির সনদ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমির উদ্দিন নাহিদ এবং উদ্বোধক ছিলেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের উপস্থিতি ও কর্মসূচি পালন নিয়ে আপত্তি জানান শিক্ষার্থী রাকিব, যার সূত্র ধরে নাহিদের সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওচিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, দুজনে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন। সেখানে নাহিদকে ওই শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শোনা যায় এবং রাকিবও তার জবাবে পাল্টা বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে নাহিদকে ওই শিক্ষার্থীর দিকে তেড়ে যেতে দেখা গেলেও ভিডিও দৃশ্য দেখে শারীরিক মারধরের অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করে জানান, পলিটেকনিক ক্যাম্পাসে বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান আয়োজন করার সুযোগ বা অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও অধ্যক্ষসহ ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়োজন পরিচালনা করা হচ্ছে। শনিবার এত বড় একটি বহিরাগত কর্মসূচি আয়োজন দেখে তিনি প্রতিবাদ জানান। তার দাবি, প্রতিবাদের কারণে জমির উদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে মারধর করেছেন। তিনি বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত বলেও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে সব অভিযোগ খণ্ডন করেছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জমির উদ্দিন নাহিদ। তিনি জানান, তর্কে জড়ানো ওই শিক্ষার্থী আগে ছাত্রলীগ করত এবং ১২ ফেব্রুয়ারির পূর্বে শিবিরের সাথে যুক্ত ছিল। পূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে তাকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক থেকে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বদলিও করা হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য এক শিক্ষার্থীকে হুমকির মামলায় তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন নাহিদ।
জমির উদ্দিন নাহিদ আরও ব্যাখ্যা দেন, পলিটেকনিকের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেননি। বাইরে থেকে আয়োজন করা হলেও এটি মূলত একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচি ছিল। এই ধরণের উদ্যোগের ফলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিকের পরিবেশ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হয়।
এ ঘটনায় পলিটেকনিক কর্তৃপক্ষের অবস্থান, বহিরাগতদের প্রবেশসংক্রান্ত নীতিমালা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিক অনুমতির বিষয়টি জানতে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।





