বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি তড়িঘড়ি করে শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ৭০ ভাগ ভোটারের পিঠে ছুরি মেরে গণভোটকে অস্বীকার করতে দলটি ছয় মিনিট সময়ও নেয়নি, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
বিএনপির উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মামুনুল হক বলেন, যদি ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ না করা হয়, চাঁদাবাজি-মাস্তানি অব্যাহত থাকে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, তবে তাদের আন্দোলন থামবে না। তিনি বলেন, এই আন্দোলন পর্যায়ক্রমে আরও তীব্রতর হবে। এছাড়া, ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর যেন নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হতে পারে, সেজন্য তারা প্রতিটি জনপদে জনগণকে সচেতন করছেন বলে জানান।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা জীবন না দিলে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার টিকিট পাওয়ার সুযোগ হতো না। তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি না চাইলেও তাকে সঠিক পথে রাখতে তারা বাধ্য করবেন। যদি তারেক রহমান শেখ হাসিনার মতো আচরণ করার চেষ্টা করেন, তবে তাকে ক্ষমতার মসনদে থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে বিএনপি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে যে ক্ষমতায় বসবে, পাঁচ বছর পর তিনিই নতুন এক হাসিনায় পরিণত হবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা নোমান আহমদ সাদিকের পরিচালনায় এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ এমপি, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা হাসান জুনাইদ ও মাওলানা জাহিদুজ্জামান। সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার দুপুর ১২টায় হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।





