বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সতর্ক করে বলেছেন যে, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পরাজিত অপশক্তি যেকোনো সময় চক্রান্তের পরিকল্পনা করতে পারে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং যুগে যুগে আমরা একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়েছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত রুখে দিতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণের প্রতি পূজামণ্ডপ পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিতে তাদের উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। রিজভী বলেন, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জ থেকে এসে তরুণ ছাত্রনেতা শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ নিজের রক্ত দিয়েছিলেন। তার সেই আত্মদান ও দীর্ঘ নয় বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল, যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব হুট করে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা মামলা, শারীরিক নির্যাতন ও জেল-জুলুম সহ্য করে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন মনোভাব এবং প্রবাস থেকে দেশনায়ক তারেক রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ৯০-এর পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তি আর ২৪-এর পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি একই সূত্রে গাঁথা। তারা ১৭ বছর ধরে দেশে লুটপাট চালিয়েছে, ব্যাংক খালি করে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে এবং গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করেছে। প্রশাসনে ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে শক্ত হাতে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, যারা ক্রসফায়ার দিয়েছে, খুন করেছে এবং জনগণের টাকা লুটপাট করেছে, তাদের ব্যাপারে কোনো শিথিলতা দেখানো যাবে না। সরকার যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়, তবে জনগণ তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানুল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হাবিবুর রহমান হাবিব, শিরীন সুলতানা, মীর সরাফত আলী সফু, সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ ৯০-এর সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সভা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন খায়েরুল কবির খোকন ও নাজিম উদ্দিন আলম।





