চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতার নাম উঠে আসায় স্থানীয় রাজনীতি ও সুশীল সমাজে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য সার ডিলার নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই অনুমোদিত তালিকাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পটিয়াজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য মোট ১৮ জন ডিলারের নাম সুপারিশ করে জেলা মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান এই কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুপারিশকৃত তালিকায় দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের জন্য ‘মেসার্স তানভীর এগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে, যার পরিচালক তানভীর উদ্দীন সেজান পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং সর্বশেষ কমিটির সদস্য ছিলেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া অতিক্রম করে কীভাবে একজন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নাম সুপারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অনুমোদিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া অন্যান্য ইউনিয়ন ও পৌরসভার ডিলাররা হলেন—আশিয়া ইউনিয়নে মেসার্স রাশেদ ট্রেডার্সের মো. রাশেদ মুবিন, কচুয়ায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মোহাম্মদ সোলাইমান, কাশিয়াইশে গাউছিয়া ট্রেডার্সের মো. শাহজাহান তালুকদার, কুসুমপুরায় মেসার্স আর এইচ ট্রেডার্সের মো. আমান উল্লাহ, কেলিশহরে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের মো. আব্দুল মান্নান, কোলাগাঁওয়ে শাহ আফজাল আউলিয়া স্টোরের মো. ইসমাইল, খরনায় মেসার্স পলি ট্রেডার্সের নাজমুল রিজুয়ান, ছনহরায় খাজা স্টোরের মো. এয়াকুব নুর, জঙ্গলখাইনে মেসার্স এম রহমান ট্রেডার্সের মো. মাহাবুবুর রহমান, জিরিতে নুসাইবা ট্রেডার্সের মোহাম্মদ ইয়াছিন, ধলঘাটে নুর হোসেন এন্টারপ্রাইজের নুর হোসেন, পটিয়া পৌরসভায় জাইমা এন্টারপ্রাইজের বুলবুল আহমদ (নান্নু), বড়লিয়ায় মেসার্স মিজান স্টোরের মিজানুর রহমান, ভাটিখাইনে মেসার্স নাজিম অ্যান্ড সন্সের নাজিম উদ্দিন, শোভনদণ্ডীতে মেসার্স আল রব এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী, হাইদগাঁওয়ে মেসার্স সাতগাছিয়া এন্টারপ্রাইজের মো. সাইদুল ইসলাম এবং হাবিলাসদ্বীপে এস. এস এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ শাহজাহান। তাদের মধ্যে কেলিশহরের আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও আওয়ামী রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
তালিকা প্রকাশের পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে পটিয়া পৌরসভা ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রাজু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন শেয়ার করে লেখেন, কীভাবে ছাত্রলীগের নেতা তানভীর ডিলারশিপের জন্য সুপারিশ পান, সেই প্রশ্ন তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে রাখছেন। রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. হাবিবুল্লাহ জানান, নীতিমালা মেনে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ৩ জন করে যোগ্য আবেদনকারীর নাম পাঠানো হয়েছে এবং এটি কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার নাম থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পদবি বিবেচনা করা হয়নি, কারণ দেশের যেকোনো নাগরিক আবেদন করতে পারেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান এবং মেসার্স তানভীর এগ্রোর পরিচালক তানভীর উদ্দীন সেজানের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দুজনের কেউই সাড়া দেননি।
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ১৩আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ২০
অনুমোদিত তালিকায় স্থান পাওয়া বাকি ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ডিলাররা হলেন—আশিয়া ইউনিয়নে মেসার্স রাশেদ ট্রেডার্সের মালিক মো. রাশেদ মুবিন, কচুয়ায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মোহাম্মদ সোলাইমান, কাশিয়াইশে গাউছিয়া ট্রেডার্সের মো. শাহজাহান তালুকদার, কুসুমপুরায় মেসার্স আর এইচ ট্রেডার্সের মো. আমান উল্লাহ, কেলিশহরে মেসার্স শাহ





