শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আধুনিক ও উন্নত করতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে শুরু হয়েছে বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লাইব্রেরিটিকে প্রযুক্তিবান্ধব ও যুগোপযোগী করে তুলতে অটোমেশন চালু, ডিজিটাল ই-রিসোর্স সম্প্রসারণ, নতুন পাঠ্যবই সংযোজন এবং ভৌত অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সুবিধার্থে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল রিসোর্সে প্রবেশাধিকার বাড়ানো হচ্ছে। প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিশ্বখ্যাত দুটি প্রকাশনা JSTOR এবং Emerald-এর ই-জার্নাল ইতিমধ্যেই কেনা হয়েছে। বেরোবি ক্যাম্পাসের আইপি (IP) ঠিকানা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা এসব ই-জার্নাল সহজে পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) এইচইএটি (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০টি শিরোনামের ই-বুকস ও ই-জার্নাল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে লাইব্রেরি অটোমেশনের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পাঠ্য চাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার বই কেনা হয়েছে, যেগুলো ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই কেনার দরপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব বই খুব শীঘ্রই লাইব্রেরির মূল সংগ্রহে যুক্ত হবে।
লাইব্রেরির ভৌত পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ভবনের পশ্চিম পাশে আউটডোর রিডিং জোনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল বসানো হয়েছে এবং একই সুবিধা উত্তর ও দক্ষিণ অংশে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে নির্মাণ করা হচ্ছে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম। লাইব্রেরিতে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও স্টাফদের যানবাহনের সুরক্ষায় ভবনের বাইরে একটি গ্যারেজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার কাজ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। ইনডোর এবং আউটডোর উভয় অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো চত্বরে নতুন সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উন্নয়ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আগে পাওয়া যেত না। এখন JSTOR ও Emerald-এর মতো মানসম্পন্ন ই-জার্নাল যুক্ত হওয়ায় ক্যাম্পাসের আইপি দিয়ে সহজেই দরকারি উপাদান ডাউনলোড করে পড়া যাচ্ছে। পাশাপাশি আউটডোর রিডিং জোনে সুন্দর বসার স্থান ও নতুন ওয়াশরুম দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক স্বস্তি আনবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষা ও গবেষণাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করার এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ই-বুক ও ই-জার্নাল শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে। এর পাশাপাশি অটোমেশন ও নতুন বই সংযোজনের ফলে শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হবে।
সংরক্ষণাগার বা আর্কাইভস সেকশন শক্তিশালী করতে ২০১১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাছাই করা ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিক পত্রিকা দরপত্রের মাধ্যমে বাঁধাই করার কাজ চলছে। এ ছাড়া লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার একাংশ দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।





