বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও শরতের স্নিগ্ধতাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজিত হলো ‘শরৎ উৎসব-২০২৬’। শুক্রবার রাতে ধানমন্ডির রাশিয়ান হাউজ মিলনায়তনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ তপোবনের সহযোগিতায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আবহমান বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নানাভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নাগরিক জীবনে নানা রূপান্তর এলেও ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা ও শৈল্পিক প্রকাশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। মূলত শরতের স্নিগ্ধতা ও আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উদযাপনের লক্ষ্যেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) গোকুল ভি কে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুই দেশের সম্মিলিত উত্তরাধিকার। উৎসবের ধরন ভিন্ন হলেও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্প্রীতি ও সৌন্দর্যবোধ দুই দেশের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করে। তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ঋতু উৎসবের ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। দুর্গাপূজা, দশমী ও নবমীর মতো উৎসবগুলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন। এসব উৎসবের মধ্য দিয়ে সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপিত হয়। ভারত-বাংলাদেশের এই অভিন্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীর প্রতীক। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী বীরেন সেন, সংগঠনটির সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম মিলটনসহ দেশের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।





