শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধভাবে দখল করা একটি দোকান সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলার ডুবিসায়বর বন্দর কাজীর হাটে অবস্থিত ব্যবসায়ী সোবহান হাজীর এই দোকানটি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ৩টায় আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মেহেদী হাসান। তিনি বিতর্কিত দোকানটি বন্ধ করে সিলগালা করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, কাজীর হাট ডুবিসায়বর বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী সোবহান হাজীর মালিকানাধীন একটি দোকানের ওপর মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন জাজিরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর। সোবহান হাজী সেই চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক দোকানটি দখল করে নেওয়া হয়। এই ঘটনার পর সোবহান হাজী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত সুরুজ মাদবর এবং তার ছেলে স্বাধীন মাদবর চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক দখলের মামলায় গ্রেফতার হন। দীর্ঘদিন তারা কারাগারে সাজা ভোগ করেন।
সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সুরুজ মাদবর আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও দোকানটি খুলে ব্যবসা শুরু করেন। বিষয়টি পুনরায় আদালতের নজরে আনা হলে আদালতের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের বলেন, "কার দোকান বা কিসের দোকান—এটা আমার দেখার বিষয় নয়। মহামান্য আদালত আদেশ দিয়েছেন, আমি কেবল আদালতের সেই আদেশ বাস্তবায়ন করতে এসেছি। আদালতের আইন অমান্য করে কেউ যদি পুনরায় এই দোকান খোলার বা তালা ভাঙার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রশাসনের এই অভিযান চলার সময় কাজীর হাটে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং কৌতূহলী জনতার ভিড় জমে যায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দেন। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।





