দৈনিক এদিন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত দুর্নীতির প্রতিবেদন এবং নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলীর (রুটিন দায়িত্ব) পদ থেকে মো. আব্দুল আউয়ালকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-১ শাখা থেকে উপ-সচিব আশফাকুন নাহারের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় (স্মারক নম্বর- ৪৬.০০.০০০০.০৮৩.১৯.০০৫.২৪-৬৩৭)। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। মো. আব্দুল আউয়ালের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মো. জামানুর রহমান, যিনি এর আগে ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মো. আব্দুল আউয়ালের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারদের বিল আটকে কমিশন আদায় এবং সিন্ডিকেট গড়ে তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গ্রেড-৫ এর এই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৬ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে শীর্ষ পদে আসীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালেও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সহায়তায় তিনি নিজের অবস্থান মজবুত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নিজের ভাতিজাসহ অন্যান্যদের মাধ্যমে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অর্থ বিনিময়ে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেওয়া এবং ঠিকাদারি কাজের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জন। নরসিংদীতে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘুষের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতে নিম্নমানের কাজ করা এবং সিলেটের কুলাউড়া-গোলাপগঞ্জ প্রকল্পের ব্যর্থতার দায়ও তাঁর ওপর বর্তায়। এছাড়া ডানিডা প্রকল্পের সাড়ে ৫ কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী ও পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রির নেপথ্যেও তাঁর নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের দাবি, তিনি অধিদপ্তরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগে অগ্রিম বেতন ও গ্রেড উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।





