বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুর, অপেক্ষা বাডরার অনুমতির

Published: October 8, 2026, 11:07 am

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথম ইউনিটের পরবর্তী ধাপ তথা ‘বি-টু’ বা ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে যাওয়ার জন্য এখন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বাডরা) প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এই ধাপে প্রবেশ করলেই চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পারমাণবিক বিভাজন শুরু হবে, যা ধাপে ধাপে নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে তাপশক্তি উৎপাদন করবে এবং পরবর্তীতে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনে রূপ নেবে। এর আগে এই ইউনিটের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যখন চরমে, তখন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কবে নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসবে—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন বা নির্দেশনা অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘স্টেজ বি-ওয়ান’ ধাপটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। এমনকি সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার যে জটিলতা ছিল, তাও সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

পরবর্তী ধাপ ‘বি-টু’ মূলত পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করার পর্যায়। এই পর্যায়ে ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মাধ্যমে চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন এ বিষয়ে জানান, তারা বাডরার কাছে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ও কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। আগের সব কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাডরার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পরই তারা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাবেন। বাডরার পারমিশন পেলেই ইনশাআল্লাহ তারা পরবর্তী পর্যায়ে (বি-টু) প্রবেশ করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের জমা দেওয়া নথিপত্রগুলো পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধার্থে নির্ধারিত আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজও ইতিমধ্যে পুরোপুরি শেষ হয়েছে। প্রথম ইউনিটটি ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে যখন তার নির্দিষ্ট উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছাবে, তখনই জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে। ইউনিট-১-এর পরবর্তী ধাপ ‘বি-টু’ বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার জন্য এখন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বাডরা) অনুমতির অপেক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh