দেশে অনলাইন জুয়ার ৮টি প্রধান হাব চিহ্নিত, নেপথ্যে বিদেশি চক্র

Published: October 6, 2026, 5:35 am

বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার দিনদিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং দৈনিক আমার দেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের অন্তত আটটি অঞ্চল বা হাব থেকে এই জুয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় এজেন্ট ও সুপার এজেন্টদের মাধ্যমে এসব হাব সচল রাখা হলেও এর মূল মাস্টারমাইন্ড বা নিয়ন্ত্রকেরা অবস্থান করছেন চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানে থাকা কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি ওই সব দেশের নাগরিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এর ফলে হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশ থেকে শত শত কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে অনলাইন জুয়া ছড়িয়ে পড়ার পেছনে আটটি সুনির্দিষ্ট হাব কাজ করছে। এই হাবগুলো হলো—মেহেরপুরের মুজিবনগর, নড়াইলের কালিয়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুড়িগ্রামের রৌমারী-ভূরঙ্গামারী, নরসিংদীর মাধবদী, নাটোরের লালপুর, গাজীপুরের টঙ্গী এবং কক্সবাজার সদর। জুয়াড়িরা এসব এলাকা থেকে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এই জুয়া চক্রের মূল হোতাদের ধরা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনলাইন জুয়া নিয়ে কাজ করা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, দেশে ঠিক কতটি হাব রয়েছে বা এগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট জরিপ বা গবেষণা নেই। অভিযানে সাধারণত কেবল স্থানীয় এজেন্ট বা বড়জোর ডিস্ট্রিবিউটরদেরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পরিচয় গোপন রাখতে তারা মূলত 'টেলিগ্রাম' অ্যাপ ব্যবহার করেন। এই অ্যাপে চীনা ও রাশিয়ান ভাষায় বার্তা আদান-প্রদান করা হয়, যা এদেশীয় এজেন্টরা গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে অনুবাদ করে বুঝে নেয়। ফলে মূল মাস্টারমাইন্ডদের পরিচয় এজেন্টদের কাছেও অস্পষ্ট থেকে যায়।

এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও সহজে টাকা উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ এসব জুয়ার সাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছেন এবং সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। এই অবৈধ জুয়ার কারণে প্রতিবছর দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এর ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি ও মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সম্প্রতি পুলিশে একটি স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট গঠিত থাকায় এখন থেকে অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধের বিষয়ে আরও ব্যাপক পরিসরে তদারকি ও তদন্ত করা সম্ভব হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh